নিজস্ব প্রতিবেদক | সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬ | 27 বার পঠিত | প্রিন্ট
নিজস্ব প্রতিবেদক: শেয়ারবাজারে কারসাজি এবং ২৫৬ কোটি টাকার বেশি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক ও সাবেক সংসদ সদস্য সাকিব আল হাসানসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময় আবারও বাড়িয়েছে আদালত। নির্ধারিত তারিখে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে না পারায় আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।
সোমবার (২৭ জুলাই) ঢাকা মহানগর দায়রা জজ ও সিনিয়র বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. শাহজাহান কবির এ আদেশ দেন। এদিন মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্ধারিত দিন ছিল। তবে দুদক নির্ধারিত সময়ে প্রতিবেদন দাখিল করতে ব্যর্থ হওয়ায় আদালত পরবর্তী তারিখ হিসেবে ২৩ সেপ্টেম্বর নির্ধারণ করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদকের প্রসিকিউশন বিভাগের সরকারি পরিচালক আমিনুল ইসলাম।
গত বছরের ১৭ মে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রধান কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সাজ্জাদ হোসেন বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন—সমবায় অধিদপ্তরের উপ-নিবন্ধক আবুল খায়ের, তার স্ত্রী কাজী সাদিয়া হাসান, আবুল কালাম মাদবর, কনিকা আফরোজ, মোহাম্মদ বাশার, সাজেদ মাদবর, আলেয়া বেগম, কাজী ফুয়াদ হাসান, কাজী ফরিদ হাসান, জাভেদ এ মতিন, জাহেদ কামাল, হুমায়ূন কবির এবং তানভির নিজাম।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, আসামিরা নিজেদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিও (বেনিফিশিয়ারি ওনার্স) হিসাব ব্যবহার করে অসাধু, অনৈতিক ও অবৈধ উপায়ে ধারাবাহিক লেনদেন, প্রতারণামূলক সক্রিয় লেনদেন এবং অনুমাননির্ভর লেনদেনের মাধ্যমে শেয়ারবাজারে কারসাজি করতেন।
এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, একটি সংঘবদ্ধ চক্র নির্দিষ্ট কয়েকটি কোম্পানির শেয়ার ধারাবাহিকভাবে কেনাবেচার মাধ্যমে কৃত্রিমভাবে দাম বাড়িয়ে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ওই শেয়ারে বিনিয়োগে উৎসাহিত করত। এর ফলে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
দুদকের অভিযোগ অনুযায়ী, এই কারসাজির মাধ্যমে চক্রটি ২৫৬ কোটি ৯৭ লাখ ৭০ হাজার ৩০৪ টাকা আত্মসাৎ করেছে। অভিযোগে এই অর্থকে অস্বাভাবিক মূলধনী মুনাফা (ক্যাপিটাল গেইন) হিসেবে দেখানো হলেও দুদকের দাবি, প্রকৃতপক্ষে এগুলো ছিল অপরাধের মাধ্যমে অর্জিত অর্থ।
এজাহারে আরও বলা হয়েছে, আবুল খায়ের হিরু শেয়ারবাজার থেকে উত্তোলিত অর্থের মধ্যে ২৯ কোটি ৯৪ লাখ ৪২ হাজার ১৮৫ টাকা তার স্ত্রী কাজী সাদিয়া হাসানের সহযোগিতায় বিভিন্ন খাতে স্থানান্তর করে মানি লন্ডারিং করেন। এছাড়া তার নামে পরিচালিত ১৭টি ব্যাংক হিসাবে ৫৪২ কোটি ৩১ লাখ ৫১ হাজার ৯৮২ টাকা অস্বাভাবিক, অযৌক্তিক ও সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্যও তদন্তে উঠে এসেছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, আবুল খায়ের হিরুর কারসাজির মাধ্যমে প্যারামাউন্ট ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড, ক্রিস্টাল ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড এবং সোনালী পেপারস লিমিটেডের শেয়ারে সাকিব আল হাসান বিনিয়োগ করেন। দুদকের দাবি, এর মাধ্যমে তিনি শেয়ারবাজার কারসাজিতে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদেরও ওই শেয়ারগুলোতে বিনিয়োগে প্রলুব্ধ করেন।
দুদকের অভিযোগ অনুযায়ী, এই প্রক্রিয়ায় সাকিব আল হাসান ২ কোটি ৯৫ লাখ ২ হাজার ৯১৫ টাকা ‘রিয়ালাইজড ক্যাপিটাল গেইন’-এর নামে শেয়ারবাজার থেকে উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেন।
তবে মামলার এজাহারে উল্লিখিত এসব অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের পর মামলার পরবর্তী আইনি কার্যক্রম এগিয়ে যাবে।
Posted ৬:২৮ পিএম | সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬
sharebazar24 | sajed khan
.
.